Wednesday, 21 July 2021

পরীক্ষা 21 - 25


21) 

পরপর তিন দিন কেটে যাবার পর আবার পরীক্ষায় মন বসাতে পারছি। 
এই তিনদিনে যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে
ভুলমণ্ডলে লোকজন বাড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না! 

এই যে কুন্তল, 
টি আই সি হবার পর থেকে এতো চাপে আছে, 
যে কোন সময়ে ও যদি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যায়, তবে ওর শরীরের দোষ কি ভাবে দেব! 

হতে পারে, ওর বিশাল টাক! 
কিন্তু টেকো হলে টি আই সি হওয়া যায় না, এরকম তো কোথাও শুনিনি! 
 
আসলে যতটুকু দোষ 
আমি ব্যস্ত! হবার জন্য হয়, 
ততটুকুই হয়তো চানক্যর ছিল! 
অথবা মহাভারতে দেবব্রতই হয়তো আসলে
ভুল করেছিল! 

যদি ভুল না করতো, তাহলে কুরুক্ষেত্র হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিনত হতো না! 

তবে চিন্তা থেকেই যায়! 
তখন গীতায় কি লেখা থাকতো! 
অন্তত যারা সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়, তাদের সিলেবাসের পরিবর্তন হতো! 

তাতে কি চাপ কমতো! 
না, ভুলমণ্ডলে চানক্যর ভুল বাড়তো? 


★★★★★ 

22) 

আজকে স্কুলে, হঠাৎ করেই একটা ক্লাস সেভেনের মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখন ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কুল বন্ধ, কিন্তু মিড ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী নিতে, মেয়েটির অভিভাবকের পরিবর্তে স্কুলে আসে। 

এখানেও ভুল! 
ভুল যতই থাক, শেষে ভালো খবরটি হলো, মেয়েটির বাড়ির লোক এসে নিয়ে গেছে। আর মেয়েটি সুস্থ আছে। 

আরও ভালো খবর হলো, 
ভুলমণ্ডলের সদস্য বাড়ছে! 
অনেকেই নতুন করে ভুলমণ্ডলে আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে! 

এ একেবারে প্রেমে পড়ার মতো ব্যাপার! 
না দেখতে পেলে, বা খবর না পেলে, 
থাক, আর ভুলমণ্ডল থেকে অন্তত 
প্রেম শেখাবার চেষ্টা করবো না! 

যাইহোক, আসল কথায় আসি। আজও নতুন পরীক্ষা! অনেক সূত্র যখন মাথায় জট পাকাতে চায়, তখন জট খোলার চেষ্টা করলে, 
ভুলমণ্ডলের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নাম লেখাতে পার! 
অথবা আবার নতুন করে, নতুন ভাবে প্রথম থেকে পরার পর, 
সমাধান করতে পারো! 


★★★★★ 

23) 

অনেকের আনাগোনায় হয়তো ছাপ হারিয়ে যেতে পারে। 
সেখানেই তো নিখুঁত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়! 

আর সমস্যার জায়গাটা সেখানেই। আমরা ফাঁকি মারতে এতোটাই আগ্রহী যে, সমস্ত কিছু চোখ দেখলেও, মাথা অবধি পৌঁছাতে চায় না! 
আমরাও সহজে ভুল করি! 

বা কিছু শুনলে, মনে রাখতে চাই না! 
তার উপর আবার পুরানো ছাপ! 

মেনে নেওয়া সহজ যে ছাপ গেছে হারিয়ে! 
নাই বা হলাম আমি দক্ষ! 
সমস্ত পরীক্ষায় তো আর পাশের দরকার হয় না! 

অথবা ভুলমণ্ডলের ভুল দেখার মতো সময় কোথায়! 
দেবব্রত যে নিজের বাড়ির জন্য, 
অন্যকে খুশি করতে নিজেকে পরিবর্তন করবে, 
এমনকি নাম পর্যন্ত পাল্টিয়ে ফেলবে, 
আগে জানলে হয়তো তার শিক্ষক পাল্টিয়ে ফেলা যেত! 


★★★★★

24) 

আর এমনিতেই শিক্ষক মশাই কোন সেই ঐতিহাসিক আমলের! 
ফলে শিক্ষাব্যবস্থা যে পুরানোই হবে, তা তো সবারই জানার কথা! 
সেখান থেকে শিখে কি আর, ডি আর ডি ও র যোগ্য হবে আশা করা যায়! 

ভুলমণ্ডলে না ঢুকলে যে অনেক কিছুই 
দেখেও অদেখা রয়ে যেতো! 
যেদিন শান্তনু ছেলের সামনে বিয়ে করেছিল, সেদিন কি বার ছিল? কোন লগ্নে তার বিয়ে হয়েছিল? 
ঠিক কতজন কনেযাত্রী এসেছিল? খাবারের কি কি ব্যবস্থা ছিল? নিরামিষের ব্যবস্থা ছিল কিনা? বা থাকলে মেনুতে কি ছিল? 

এসব প্রশ্ন হয়তো অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতেই পারে! তবে পরীক্ষায় কি প্রশ্ন আসবে, আগে থেকে তো আর জানা যায় না! তাই সব প্রশ্নের উত্তর জেনে রাখতে হয়! না হলে যারা আসলে নিরামিষভোজী, তাদের পরীক্ষার নামে ননভেজ হজম করতে হতো! 

তবে তাতে অন্তত একটা বিষয়ে স্বস্তি থাকতো, 
চানক্য অন্তত ছেলের সামনে নিজের বিয়ের ভুল করেনি! বা কনেযাত্রীদের জন্য নিরামিষ আহারের ব্যবস্থা করেনি! 


★★★★★ 

25) 

বিয়ে বাড়িতে নিরামিষ আহার, মানা যায়! 
এদিকে সিংদাও ডাক্তারের পরামর্শে নতুন করে আবার আমিষ আহার শুরু করেছেন। যদিও নিরামিষে সিংদার একটুও অসুবিধা হয় না, 
তবুও বিয়েবাড়ি বলে কথা! 

হ্যাঁ, যা বলছিলাম, 
একেবারে আসল কথায় আসা যাক! 
নিখুঁত পর্যবেক্ষণ না থাকলে, 
আহার আমিষ বা নিরামিষ, কোনটির স্বাদ ঠিক ভাবে আস্বাদিত হবে না! 

তাহলে, পর্যবেক্ষণের জন্য ভালো জিহ্বা থাকাও জরুরী! যাতে করে যখন তখন যাকে খুশী চেটে দেওয়া যায়! 

না না, কেউ অন্য 
অর্থাৎ ভুল মানে করবেন না! 
তাহলে আর আমাকে, 
চেষ্টা করে ভুলমণ্ডলের সদস্য বাড়াতে হবে না! 

এমনিতেই সময়ের ভুলে, 
ব্যাস্ততাকে কেউ বোধ হয়, 
থার্ড হ্যাণ্ড নামে, 
ভুলমণ্ডলে ঢোকে! 
তাকে বিপথে চালিত করা কি চানক্যের কাজের মধ্যে পড়ে! 

অথবা ক্ষণস্থায়ী হেঁচকির সম্মুখীন হতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে, যা ভুল করে দেখলে, 
নষ্ট কিছুকে মনে করায়! 


★★★★★

No comments:

Post a Comment