Sunday, 4 July 2021

পরীক্ষা 16 -20


16) 

ভুলমণ্ডলে নতুন সংযোজিত নাম বোধ হয় অপেক্ষা হতে চলেছে! তা সে ছয়েই হোক বা আটেই হোক! 

ছয় আটের ভুল, 
তো পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে রামায়ণ অতিক্রম করেছে! 

এখন তো রামায়ণে ভুল ধরা উচিত নয়! জানি রামায়ণে বিভীষণ ছিল। কেউ কেউ আবার তাঁকে বিশেষনে পরিনত করে ফেলেছেন! তবু তো কেউ থাকে, যে এখনও বিভীষণে দেবত্ব পায়! 

হয়তো সময় বদলেছে বলে, মানুষ ক্রমশ বুড়ো হয়েছে, কিন্তু কারোর নামে পরিবর্তন এসেছে বলে কখনও শুনিনি! তাই পরিবর্তনের এই ভুলমণ্ডলে, অনেক কিছু ছবি হয়ে থেকে যায়! 

আর ছবি যত পুরানো হয়, ততই ধূলো পড়ে ফ্যাকাশে হয় বেশী। ফলে দূর থেকে দেখে ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু যে, ভুলের খোঁজে ভুলমণ্ডলে ঢোকার সাহস দেখায়, তার কাছে তো ভুল আশা করা যায় না! এ যে শুধু ভুল নয়! 

কথামতো, পরিনত ভুল! 
পরিনত বলেই তো যতো চিন্তা! 
এই দেখো না, একেবারে চানক্যর মতো, 
অপেক্ষায় না আশায়, বোঝার পরিনতি, ভুল, 
আসলে ভুলমণ্ডলের দোরগোড়ায়!!! 

★★★★★ 

17) 

হয়তো মাঝে কদিন কেটেছে বলে, 
চানক্যর ভুলমণ্ডল থেকে একটু মাথা তুলতে পেরেছি! বিশ্বাস আছে, তাই তো আবার নতুন পরীক্ষার সামনে দাঁড়াতে পারি! 

মহাকাশে আবার সূর্যের উদয় দেখতে পাই! তার ছটায়, 
আমার সব কিছুই আলোর সামনে আসতে চায়! 
কিন্তু মনে যে এখনও ভয়! 

যে সব কখনও পাওয়া হয়নি, তা হারানোর ভয়! 
আর এ ভয়, যে কখনও পায়নি, সে যে কোনো ভাবেই বুঝতে পারবে না!! 

তাই তো আলোর সামনে ব্যস্ততা আসে! না বুঝেও বুঝে নেয় যারা, তাদের উপর তখন ভীষণ রাগ হয়! তাদের কাণ্ডে অবশ্য একা একা কতো যে হেসেছি! 

কালকে একটা সিনেমা দেখলাম, আবার বসন্ত বিলাপ। কতো সহজে বাস্তবের থেকে আলাদা করা যায়, অথচ সমস্ত কাচামালই বাস্তবের! 

হয়তো সেই জন্যই ব্যবসা জমেনি। তবে এই সিনেমায় ভুলমণ্ডলের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল তো! তাই বলে ব্যাবসার লসের কারন ভুলমণ্ডল, এটা মনে করারও কোনো কারন নেই। 


★★★★★


18) 

তবে যাই বলো না কেন, 
বাসের জন্য অপেক্ষা, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা, ক্যান্টিনে খাবার টেবিলে অপেক্ষা, সেলুনে তো শুধুই অপেক্ষা। পোস্ট অফিসে গেলেও অপেক্ষা, ব্যাঙ্কের বাইরে লাইনে অপেক্ষা। বাস থেকে নেমেও অপেক্ষা, ডাক্তারের কাছেও রয়েছে অপেক্ষা! পড়তে গেলে, বাইরে অপেক্ষা! 

ফোন এলে শেষের অপেক্ষা, না এলেও তো অপেক্ষা! কিন্তু আসলে কে এই অপেক্ষা? 
অথবা কেন এই অপেক্ষা? 
অথবা কিভাবে এই অপেক্ষা? 
অথবা কিজন্য এই অপেক্ষা? 
অথবা কি কারনে এই অপেক্ষা? 
অথবা, আরও অনেক প্রশ্ন সামনে আনাই যায়। 

আর যে প্রশ্ন খুঁজে বের করতে পারে, উত্তরও তার জানা উচিত! 
আগেও দেখা গেছে, সমস্ত কাঁচামালই বাস্তবের। 
তাই শুধুমাত্র বাস্তবের বিষয়ে জানতে পারলেই হবে। পরে শুধু কাঁচা মাল নিয়ে নিলেই হলো! 

এই অবস্থায় বাস্তবের ব্যাপারে জানতে আমি দত্তবাড়ির টেকো কুন্তলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বলে কি, দত্তবাড়ির ছেলে হলেও, বাস্তবের সঞ্জয়কে চেনে না! 

তবে কি সঞ্জয় মহাভারত থেকে এসেছে! 
নাকি, শুধু শুধুই চানক্যর ভুল! 


★★★★★

19) 

বলতে অসুবিধা নেই, তাই সবাইকে বলতেই পারি। এই যে পরীক্ষা, 
একসময় পরীক্ষার সন্ধিবিচ্ছেদ শিখতে হয়েছে! 
তার আগেই আবার সন্ধি শিখতে হয়েছে! 

কিন্তু শেষমেশ কি হলো, পরীক্ষায় পরীক্ষার সন্ধিবিচ্ছেদ পড়লোই না! তার জায়গায় যেটা সামনে এলো, 
সেটা এতোই এলোমেলো, যে আবার নতুন করে অসুবিধার কারন তৈরী করলো! 

দোটানাটা কোথায় বোঝাতে, 
অসুবিধা নেই, না আছে, সেটা জানা সবার আগে দরকার। এই মাত্র নেই থেকে শুরু করে আছে তে গিয়ে শেষ হয়েছে। এবার আমরা আছে থেকে শুরু করবো। দেখা যাক, কোথায় গিয়ে শেষ হয়! 

অসুবিধা আছে ধরে নিলে, বলবো কেন, প্রশ্ন আসতেই পারে! তবু প্রশ্ন এড়িয়ে যাবার ভুল করতে করতে, যদি বলেই ফেলি, ফেলে দেওয়া জিনিস কজন যত্ন করে কুড়িয়ে রাখবে, তর্কের বিষয়! 

যদি ধরে ধরেই এগোতে হয়, তাহলে দুবছর ধরে শেখার কি দরকার! 
একেবারে শিখেছি, ধরে নিলেই হলো! 

তাহলে অন্তত বিশুদ্ধ চানক্য পাওয়া যায়! 
তাতে শতাংশ হিসাবে মোটে একশো ভুল থাক না কেন! 


★★★★★ 

20)

এই জন্যই বোধহয় রবিঠাকুর বলেছিলেন, ওখানে স্থান যে সীমিত! 

তাই বলে বানান ভুলে, সিমিতকে আবার রবিঠাকুরের কথা জিজ্ঞেস কোরো না যেন। বেচারি এখনও কোনো কিছু বুঝতে না পেরে, আমার সঙ্গে ম্যাসেজে যোগাযোগ বন্ধই করে দিয়েছে! 

তবে নতুন নামে, পরীক্ষা, তার রূপ বদল করে, ভুলমণ্ডলের চারপাশে ইলেকট্রনের মতোই ঘুরে চলেছে! 

আর তার ইলেকট্রনের মতো হওয়ার কারনেই, কেন্দ্রীভূত হতে পারছে না! হলেই যে মডেল স্থায়িত্ব হারাবে! 

আর যে মডেল স্থায়ী নয়, তার পিছনে, না হয় সামনেই বলো, নষ্ট করার মতো সময় কোথায়! 
কাল থেকেই আবার টেকো কুন্তল তলব করেছে! সবাই মিলে পরপর চারদিন, যে কোনো দিন আবার সাহেবরা আসতে পারে! 

কতো যে অপেক্ষা! শেষে দেখা যাবে, অপেক্ষাই বৃথা! চারদিন কেটে গেলেও যোগাযোগ হলো না! 
শুধু একটা ফোন, যা হলো তার ছবি পাঠাবেন! একদিক থেকে যোগাযোগ বন্ধ! অনেক প্রশ্ন ছিল যে মনে! 

তাই অবশেষে অবশ্যই বলা যায়, আছে থেকে শুরু করলে, অনেক প্রশ্ন নিয়ে শেষ হয় অর্থাৎ ভুলমণ্ডলে ভর্তির আবেদনপত্র জমা পড়লো! 


★★★★★

No comments:

Post a Comment